বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসির খাতা দেখানোর ভিডিও ফেসবুকে

রিপোর্টারের নাম :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে এমনটা করেছেন বলে অভিযোগ। তবে শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।ওই শিক্ষকের নাম রিপন হোসেন। তিনি ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে খাতা পাঠানো হয়। এর অংশ হিসেবে রিপন হোসেনের কাছেও একগুচ্ছ উত্তরপত্র আসে।.অভিযোগ আছে, রিপন হোসেন নিজে মূল্যায়ন না করে তাঁর কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়নের কাজ করান। তাদের অধিকাংশ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।তবে ওই শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজের কাছে অবস্থানের সময় রিপন হোসেন তাঁদের ডেকে উত্তরপত্রে পরীক্ষার কোড নম্বর পূরণের কাজ করতে বলেন।.যাঁকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কেবল তিনিই তা করতে পারবেন। অন্য কেউ, এমনকি অন্য কোনো শিক্ষকও এ কাজ করতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক.পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় দায়িত্ব মন্তব্য করে জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাইরে অন্য কারও হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।.ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত রোববারের। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজটির একটি শ্রেণিকক্ষে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে বিভিন্ন তথ্য লিখছিল। তাঁদের একজন পরীক্ষার কোড ও বিষয় কোড পূরণ করছিলেন। বেঞ্চ ও পাশের চেয়ারে উত্তরপত্রের স্তূপও দেখা যায়।.বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন শিক্ষক, ৪০০ খাতা জব্দ.তবে উত্তরপত্র নিজেই মূল্যায়ন করেছেন বলে দাবি করেন প্রভাষক রিপন হোসেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার কোড ও বিষয় কোড লেখার ঘর ফাঁকা রেখে ওয়াশরুমে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজে থেকেই সেখানে কোড লিখতে শুরু করে। ফিরে এসে তিনি তাদের কাছ থেকে খাতাগুলো নিয়ে নেন। কাউকে তিনি এ কাজ করতে বলেননি বা অনুমতিও দেননি।কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুরের কাছে একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন রিপন হোসেন। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।.পরীক্ষার কোড ও বিষয় কোড লেখার ঘর ফাঁকা রেখে ওয়াশরুমে গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজে থেকেই সেখানে কোড লিখতে শুরু করে। ফিরে এসে তিনি তাদের কাছ থেকে খাতাগুলো নিয়ে নেন।রিপন হোসেন, অভিযুক্ত শিক্ষক.অভিযোগটির তদন্তে আজ মঙ্গলবার কলেজ পরিদর্শন করার কথা আছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গাবালী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল কালাম আজাদ বলেন, যাঁকে উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কেবল তিনিই তা করতে পারবেন। অন্য কেউ, এমনকি অন্য কোনো শিক্ষকও এ কাজ করতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/a6ne6xi888

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর বিস্তারিত....

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার (বিকাল ৫:০৬)
  • ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ২০শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
  • ১৮ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)