মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

তথ্য সংগ্রহে সুপ্রিম কোর্টের বিচার কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি

রিপোর্টারের নাম :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৯ বার পঠিত

সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের স্বার্থে অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংঠনের নেতারা। সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে আজ বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে এ দাবি জানানো হয়।‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ আদালতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি’—এমন ব্যানারে ওই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)।কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ (গত ৭ জানুয়ারি থেকে) হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন আদালত কক্ষে প্রায় সাত মাস ধরে সাংবাদিকেরা প্রবেশ করতে পারছেন না। জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিতে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তাঁরা। পাশাপাশি অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশ করতে না দেওয়া হলে তাঁরা আপিল বিভাগে শান্তিপূর্ণভাবে প্রবেশ করবেন বলেও ঘোষণা দেন। তবে কবে ও কখন, তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান।.অবস্থান কর্মসূচিতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী উন্মুক্ত আদালতে জনসমক্ষে বিচার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যেই বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষকে রাষ্ট্রের সংবিধানের কোনো অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তা সমুন্নত করার অধিকার দেওয়া হয়েছে; সেই বিচার বিভাগ নিজে যদি সেই অধিকারকে লঙ্ঘন করে—এটা দুঃখজনক, দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক ঘটনা।…সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ কোনো অবস্থাতেই সংবিধানে দেওয়া যে প্রকাশ্য বিচারকার্য পরিচালনার নির্দেশনা, সেটি ভঙ্গ করে সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য নিজেদের অভিযুক্ত করবেন না—এটা আমাদের আশা। তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার বিনীত অনুরোধ জানান।.এই প্রবেশাধিকার না থাকার কারণে বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে রেজিস্টারের মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনার জন্য তিন দিন আগে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাননি।.আজকের অবস্থান কর্মসূচি জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য বলে উল্লেখ করেন ল রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, জনগণের জানার যে অধিকার, তা দেশের সংবিধান দিয়েছে। সংবিধান বলছে বিচার হতে হবে প্রকাশ্য আদালতে এবং জনগণকে জানতে দিতে হবে।…সংবিধান বলেছে জনগণের জানার অধিকারকে সংকুচিত করতে পারবে না, বন্ধ করতে পারবে না, দরজা বন্ধ করে কোনো বিচার করা যাবে না।…বাস্তব অর্থে শুধু সাংবাদিক না, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে কোনো বিচারপ্রার্থীও প্রবেশ করতে পারে না।জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য ঢাকার সব সাংবাদিক নিয়ে একদিন সুপ্রিম কোর্টে সুশৃঙ্খলভাবে বসে যাবেন বলে উল্লেখ করেন এলআরএফের সাবেক সভাপতি সালেহ উদ্দিন। তিনি অনুরোধ করেন, এমনটি করার আগেই যদি বিচারাঙ্গনের শৃঙ্খলার জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করা যায়, যে কতজন সাংবাদিক ভেতরে প্রবেশ করবেন, তাহলে ভালো হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও সাংবাদিকেরা আলোচনা করে আচরণ বিধিমালা–নীতিমালা করতে পারে। তিনি আহ্বান জানান, অবিলম্বে যেটি বিচারিক কোনো আদেশ (সাংবাদিকদের আদালতে প্রবেশে বিধিনিষেধ) না, প্রশাসনিক কোনো আদেশও না, একটা মৌখিক আদেশ, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।.দেশে দেশে প্রকাশ্য বিচারব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বিচারব্যবস্থায় একটা টার্ম আছে দৃষ্টান্তমূলক বিচার।…এ জন্য মানুষের কাছে সেই বিচারটিকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করতে হয়, যাতে অপরাধ থেকে মানুষ দূরে থাকে। গণমাধ্যম যদি সেখানে যেতে না পারে, তথ্য যদি না পায়, মানুষের সামনে সেটি প্রকাশ না করতে পারে তাহলে সেটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয় না। সুতরাং দৃষ্টান্তমূলক বিচারব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য সেটি বাংলাদেশে কায়েম করার জন্য গণমাধ্যমের তথ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানাব।’ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির মাধ্যমেই আমাদের বাক্‌স্বাধীনতা, আমাদের লেখার স্বাধীনতা, আমাদের বলার স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় হবে। সে ব্যবস্থা উনি করে দেবেন। এটা আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করি।’.ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, শুধু বলতে চাই যেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া লাইভ সম্প্রচার করা হয়, সেখানে কী করে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না?…প্রধান বিচারপতি নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেবেন।ল রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার সঞ্চালনায় অবস্থান কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি ও আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশনের সভাপতি শাফি উদ্দীন আহমদ, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সভাপতি কাজী জেবেল, ল রিপোর্টার্স ফোরামের সাবেক সভাপতি এম বদি উজ-জামান, আশুতোষ সরকার ও শামীমা আক্তার বক্তব্য দেন।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/lkp9ccccmn

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর বিস্তারিত....

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (দুপুর ২:০৯)
  • ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
  • ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল)