
অস্ত্র ও ভারতীয় গরু মহিষ পাচারের পেছনে শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট এর তথ্য মিলেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত অস্ত্র,গরু মহিষ ও মাদক চোরা কারবারিদের প্রধান রোড ধর্মদহ,বিলগাথুয়া,চরপাড়া,** ছলিমপাড়া, চল্লিশপাড়াসহ বাংলাবাজার সীমান্ত পথ ব্যবহার করে সম্প্রতি একাধিক দফায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও ভারতিয় গরু মহিষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে কিছু অস্ত্র ও ভারতিয় গরু মহিষ উদ্ধার হলেও মূল চোরাকারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সূত্র জানায়, দৌলতপুর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ৫ নং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ছলিম পাড়া গ্রামের মৃত্যু ছানু মন্ডলের ছেলে মোঃ হ্যাপি ওরফে লোহা হাপি(৩৮) সহ তার কয়েক জন সহযোগী অস্ত্র ও বোমা সঙ্গে নিয়ে চোরাই পথে কখনো ভারতের বিএসএফ সদস্যদের অস্ত্র ও বোমার মুখে জিম্মি করে ভারতীয় অবৈধ গরু ও মহিষ এমন কি অত্যাধুনিক আগ্নেয় অস্ত্র দেশে প্রবেশ করিয়ে পুনরায় দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছে। এসব অস্ত্রের চালানে রয়েছে আমেরিকায় তৈরি উন্নতমানের আগ্নেয়াস্ত্র, সেভেন,নাইন এমএম,শুটারগান, সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ।
দৌলতপুর উপজেলার সঙ্গে ভারতের ৪৬ কিলোমিটার সীমান্ত, যার ১৮ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া, বাকিটা উন্মুক্ত, স্হানীয়রা জানান লোহা হাপি যে এলাকায় বসত করে সেই গ্রামটি ছলিমের পাড়া নামে পরিচিত, যদিও গ্রামটি একই বারে বাংলাদেশ ভারত সিমান্ত প্লেয়ারের সাথে মিশে আছে। তাই অস্ত্র, মাদক ও চোরাই পথে গরু মহিষ অবৈধভাবে সীমানা অতিক্রম করতে খুব একটা বেগ পেতে হয় না হাপি বাহিনীকে। অতিতে হ্যাপি বাহিনীর হ্যাপি সহ তার “অপারেশন ক্লিন” নামক সিমান্তে চোরাকারবারি বাহিনীর অনেকের নামে একের অধিক অস্ত্র ও মাদক মামলা ছিল বা এখনো রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ইং তাং আনুমানিক রাত ১২ টার দিকে হ্যাপি বাহিনীর “অপারেশন ক্লিন” বাহিনীর নেতা মোঃ হ্যাপির নেতৃত্বে, বাহিনীর সকল সদস্য অবৈধভাবে বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন। ভারত থেকে নিয়ে আসেন তিন টি এড়ে গরু জাহার গায়ের রং লালচে কুখরা এবং দুই টা কালো মহিষ সাথে নিয়ে পুনরায় বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করেন। গরু তিনটা ঐ রাতেই অতিতের মতো সোনাতলা গ্রামের জাহিদ ব্যাপারী কাছে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসেন। কিন্তু দামে দরে না হলে গরু তিনটা দুই ভাগে ভাগ করে বাদশা দফাদার নামক একজন গরুর রাখালের বাড়িতে গরু দুটি রাখেন,চোরাকারবারির গড ফাদার হাপি’কে না জানিয়ে গরু দুটি বাদশা দফাদার, একই এলাকার ডুগু বেপারীর কাছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় গরু দুটি চিলমারী ইউনিয়নের একজন মেম্বারের কাছ থেকে গরু দুটি বসত বাড়ির পালিত পরিচয় দিয়ে ক্রয় স্লিপ সংগ্রহ করে বিক্রয় করিয়া দেন। সকাল হতে না হতেই শুরু হয় অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ভারতীয় গরু নিয়ে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। অবৈধ ভারতীয় গরু নিজ বসত বাড়িতে রেখে, ন্যায্য মূল্যে গরু দুটি বিক্রয় করেন বাদশা দফাদার সকল চোরাকারবারীদের জানান দেন যে গরু দুটি গভীর রাত্রে নিজ গোয়াল থেকে চুরি হয়ে গেছে, বাকি একটি গরু ও দুটি মহিষ হাপি ও তার বাহিনীর সহযোগিতায় ৯ জানুয়ারি বিক্রয় করিয়া দেন।
ভারত সিমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করা গরু দুটি সোনাইকুন্ডি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে হ্যাপি নিজেই স্থানীয় নেতা কর্মীদের ও সাধারণ জনগণের সামনে ৫নং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মহাবুল বিশ্বাস এর কাছ থেকে স্বাক্ষরকৃত গরু দুটির বিবরণ সহ ক্রয় স্লিপ লইয়া হোগল বাড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সবুজ তানজিম এর কাছে প্রদান করেন মেম্বার নিজেই, উল্লেখ্য বিষয় হলো ডুগু ব্যাপারীর কাছে থাকা গরুর সার্টিফিকেটের সঙ্গে গরু দুটির হুবহু মিল রয়েছে অথচ ভারত সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা গরু দুটির মালিক মোঃ হ্যাপি। হ্যাপিকে সার্টিফিকেট প্রদানকারী মেম্বার গরু দুটি চোরাই পথে ভারতীয় সীমানা অবৈধভাবে অতিক্রম করে বাংলাদেশ নিয়ে আশার অজস্র তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা দাবি করেন গরু দুটি হাপি’র নিজ বসত বাড়িতে পালিত। সার্টিফিকেট প্রদানকারী মেম্বর সব কিছু যেনেও হ্যাপিকে গরুর বিক্রয়ের সার্টিফিকেট প্রদান করেন। মেম্বরের সার্টিফিকেট ও সশরীলে উপস্থিত হয়ে মেম্বরের মুখের বক্তব্য শুনে স্হানিয়রা মেম্বরের কথার উপর ভরসা করে, স্থানীয় নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে গরু দুটি হাপি নিজ মালিকানা দাবি করাই হ্যাপির হাতে গরু দুটি তুলে দেওয়া হয়। উক্ত গরুকে কেন্দ্র করে চোরাকারবারিদের আক্রমণে কয়েকজন আহত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ জনগণের উপর অমানবিক অত্যাচার করছে এমনটাই জানিয়েছেন এলাকাবাসী। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দৌলতপুর থানায় চারটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি: হ্যাপি ওরফে লোহা হ্যাপি ছলিমপাড়া এলাকার সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ী নামে পরিচিত। হ্যাপি মাদক থেকে শুরু করে অস্ত্র, গরু মহিষ সবকিছুই সে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করান। এলাকার যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অতি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে লোহা হ্যাপি সহ তার সকল সহযোগীকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা নিলে এলাকার মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।