শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন

সৈয়দপুরে আগুনে পুড়ল ব্যাংক ভবন

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮ বার পঠিত
ছবি : সংগৃহীত
10 / 100 SEO Score
পানির জন্য হাহাকার,

রেলের শহর সৈয়দপুর, একসময় যার বুক জুড়ে ছিল অসংখ্য পুকুর, রিজার্ভার ও জলাশয়, সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সেই শহরের প্রাণরোমন্থন জীবন্ততা এক মুহূর্তে ঝুঁকে পড়ে।
‎শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের একটি তুলার গোডাউন থেকে পাশের ঢাকা ব্যাংক ভবনে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভিশন শোরুম, ইলেকট্রনিকস দোকান, গাউসিয়া হোটেল, পাহেলওয়ান হোটেল ও অর্ধশতাধিক মনোহারি ও কাপড়ের দোকানে। ‎‎উষ্ণতা দেয়ার জন্য রাখা তুলা মুহূর্তে হয়ে ওঠে আগুনের খাদ্য। দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে গোডাউন, তারপর শিখা ছড়িয়ে পড়ে ব্যাংক ভবনে। নিচতলায় থাকা মার্কেন্টাইল ইসলামী ব্যাংকের নথিপত্রও রক্ষা পায়নি। ‎ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে দেয়। মানুষের ছুটোছুটি, আতঙ্কিত চোখ, আর ফায়ারকর্মীদের নিরলস লড়াই—সব মিলিয়ে ছিল এক অস্থির দুপুর। ‎‎সৈয়দপুর, পার্বতিপুর, তারাগন্জ ও নীলফামারী মিলে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করে। কিন্তু সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ায় পানির অভাব। আশপাশে হাতের নাগালে কোনো পুকুর নেই, নেই খোলা জলাশয়। রিজার্ভ গাড়ির সীমিত পানিই ছিল একমাত্র ভরসা। ‎সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবুল হাশেম জানান, তুলার গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। নিরুপন করা যায়নি ক্ষতি পরিমান। ‎সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শওকত হায়াত শাহ বলেন, “ঈদের আগে এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।” ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলেন, “এটি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং আমাদের স্বপ্নেরও ক্ষতি।” ‎স্থানীয়রা জানান, একসময় রেলের এই শহরে ছিল বহু পুকুর ও রিজার্ভার। ধীরে ধীরে সেগুলো দখল, ভরাট ও বিক্রি হয়ে গেছে। কোনোটি বহুতল ভবন, কোনোটি ব্যক্তিগত বাড়িঘর। জলাশয়ের জায়গায় উঠেছে ইট-কংক্রিটের দেয়াল। কিন্তু আগুনের সময় সেই দেয়াল পানি দেয় না; জীবনরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না। ‎এই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আর্থিক নথি। ব্যাংকের ভল্ট নিরাপদ থাকলেও ক্ষতির ভার হালকা নয়। ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও গ্রাহকের চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া। আগুন নিভে গেছে। ধোঁয়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে আকাশে। কিন্তু প্রশ্ন জ্বলছে—আমরা কি আমাদের শহরকে নিরাপদ রাখতে পেরেছি? আমাদের জলাশয়গুলো কি বাঁচাতে পেরেছি? এখনি ব্যবস্থা না নিলে, সামনে অপেক্ষা করছে ভয়ংকর ধ্বংসস্তূপ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর বিস্তারিত....

আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার (রাত ৩:৫৮)
  • ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ২৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল)